বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৪
বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৪
আশুরার আমল।
ইসলামী বর্ষপঞ্জি মতে, মহররম মাস হলো আরবি সনের প্রথম মাস। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের
কাছে চারটি মাস সব মাসের চেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও সম্মানিত। আর তা আল কুরআনের
আয়াতে কারিমা দ্বারা প্রমাণিত। মহররম সেই চারটি মাসের মধ্যে অন্যতম মাস। অন্য তিনটি হলোÑ
জিলকদ, জিলহজ ও রজব।আল্লাহ রাব্বুল
আলামিন ঘোষণা করেন, আল্লাহ তায়ালা আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই মাসের
সংখ্যা ও বার নির্ধারণ করে রেখেছেন। তন্মধ্যে চারটি মাস অধিক সম্মানিত। সুতরাং তোমরা এই সম্মানিত মাসগুলোর মধ্যে (ঝগড়াবিবাদ ও খুনখারাবি করে) নিজেদের ওপর জুলুম করো না। ওপরের আয়াতে এ কথা প্রমাণিত যে, মহররম মাসটি অত্যন্ত ফজিলত ও বরকতপূর্ণ
মাসগুলোর অন্যতম। মহররম মাসের সম্মানের বিষয়ে রাসূল সা: বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর মাস মহররমের প্রতি সম্মান
প্রদর্শন করবে। কেননা যে ব্যক্তি মহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে,
তাকে জাহান্নাম থেকে
মুক্তি ও জান্নাত দান করে সম্মানিত করবেন আল্লাহ তায়ালা’ (মুসলিম ইবনে মাজা)। অপর হাদিসে রাসূল সা: এরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজার পরই আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রিয় হলো মহররম মাসের রোজা’ (মুসলিম)।
অপর হাদিসে রাসূলে করিম সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি মহররমের প্রথম দশ দিন রোজা রাখে, সে যেন দশ হাজার বছর যাবৎ দিনে রোজা রাখল এবং রাতে ইবাদত করল’ (বায়হাকি)।
মহররম মাসের সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো ইয়াওমুল আশুরা তথা মহররমের দশ তারিখের রোজা। তবে যেহেতু ইহুদিরাও দশ তারিখের রোজা রাখে, তাই রাসূল সা: দশ তারিখের রোজার সাথে মিলিয়ে আরো একটি, অর্থাৎ মোট দু’টি রোজা রাখার কথা বলেছেন। নিঃসন্দেহে এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ, যা একাধিক হাদিস ও বুজুর্গানে দ্বীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত। তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, এই রোজা ফরজ নয়। তাই যার যার ইচ্ছানুযায়ী এই দিনে রোজা রাখতে পারেন। না রাখলে কোনো গুনাহ হবে না। আজকের সমাজে অনেকে এই রোজা না রাখাকে মহাপাপ মনে করেন, যা চরম অজ্ঞতার পরিচায়ক।
মহররম মাস যেহেতু পবিত্র ও সম্মানিত, তাই এ মাসে সামর্থ্য অনুসারে দান-খয়রাত, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতেরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তাই এই মাসে এবাদতের প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা দরকার।
মহররম মাসে বিদআত : মহররম মাস আনন্দের মাস, আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করার মাস। নতুন বছরের শুরুর মাসেই নিজেকে সংশোধন ও সত্যের আলোয় রাঙানোর মাস। এখানে বিদআত তথা অতিরঞ্জিত কোনো কিছুর স্থান নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑ আশুরাকে কেন্দ্র করে কিছু ভ্রান্ত মতবাদ সমাজে চালু আছে। যেমন তাজিয়া তৈরি, হোসাইন রা:-কে স্মরণ করার নামে মাতম করা অথবা অতি আনন্দে আলোকসজ্জা বা পটকা ফুটানো ইত্যাদি। এগুলো ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করে না। ইসলামের মতো সত্য ও সুন্দর ধর্মে এসব ভণ্ডামির কোনো আশ্রয় নেই। মহররম মাসে আমাদের উচিত সর্বপ্রকার কুসংস্কার ও বিদআত থেকে মুক্ত হয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ মাসকে যথাযথ সম্মান করা এবং বেশি বেশি এবাদত করা।
অপর হাদিসে রাসূলে করিম সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি মহররমের প্রথম দশ দিন রোজা রাখে, সে যেন দশ হাজার বছর যাবৎ দিনে রোজা রাখল এবং রাতে ইবাদত করল’ (বায়হাকি)।
মহররম মাসের সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো ইয়াওমুল আশুরা তথা মহররমের দশ তারিখের রোজা। তবে যেহেতু ইহুদিরাও দশ তারিখের রোজা রাখে, তাই রাসূল সা: দশ তারিখের রোজার সাথে মিলিয়ে আরো একটি, অর্থাৎ মোট দু’টি রোজা রাখার কথা বলেছেন। নিঃসন্দেহে এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ, যা একাধিক হাদিস ও বুজুর্গানে দ্বীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত। তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, এই রোজা ফরজ নয়। তাই যার যার ইচ্ছানুযায়ী এই দিনে রোজা রাখতে পারেন। না রাখলে কোনো গুনাহ হবে না। আজকের সমাজে অনেকে এই রোজা না রাখাকে মহাপাপ মনে করেন, যা চরম অজ্ঞতার পরিচায়ক।
মহররম মাস যেহেতু পবিত্র ও সম্মানিত, তাই এ মাসে সামর্থ্য অনুসারে দান-খয়রাত, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতেরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তাই এই মাসে এবাদতের প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা দরকার।
মহররম মাসে বিদআত : মহররম মাস আনন্দের মাস, আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করার মাস। নতুন বছরের শুরুর মাসেই নিজেকে সংশোধন ও সত্যের আলোয় রাঙানোর মাস। এখানে বিদআত তথা অতিরঞ্জিত কোনো কিছুর স্থান নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑ আশুরাকে কেন্দ্র করে কিছু ভ্রান্ত মতবাদ সমাজে চালু আছে। যেমন তাজিয়া তৈরি, হোসাইন রা:-কে স্মরণ করার নামে মাতম করা অথবা অতি আনন্দে আলোকসজ্জা বা পটকা ফুটানো ইত্যাদি। এগুলো ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করে না। ইসলামের মতো সত্য ও সুন্দর ধর্মে এসব ভণ্ডামির কোনো আশ্রয় নেই। মহররম মাসে আমাদের উচিত সর্বপ্রকার কুসংস্কার ও বিদআত থেকে মুক্ত হয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ মাসকে যথাযথ সম্মান করা এবং বেশি বেশি এবাদত করা।
মহররম ও আশুরার ইসলামী ইতিহাস।
মহররম মাস, ইসলামি বছর শুরু হয় এই মাস দ্বারা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে চারটি মাসকে
বিশেষভাবে সম্মান দান করেছেন মহররম মাস তার অন্যতম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন
ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারোটি আসমান ও পৃথিবী
সৃষ্টির দিন থেকে। তার মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এতে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার
করো না’ (সূরা তাওবা : ৩৬)।
ওপরে উল্লিখিত আয়াতে সম্মানিত মাসগুলো কী তা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরিফে বলে দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব (সহিহ বুখারি, দ্বিতীয় খণ্ড, ৬৭২)।
মহররম শব্দের অর্থ হচ্ছে যাকে ‘হুরমত’ প্রদান করা হয়েছে। আরবি ভাষায় হুরমত বলা হয় সম্মান, মর্যাদা, মাহাত্ম ও পবিত্রতাকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই মাসকে বিশেষ সম্মান দান করেছেন।
হজরত ইবরাহিম আ:-এর শরিয়তেও অন্যান্য নবীগণের মতো এই মাসগুলোর সম্মান-মর্যাদা স্বীকৃত ছিল এবং এগুলোতে জায়েজ উদ্দেশ্যও যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম ছিল। মক্কার মুশরিকরা নিজেদের হজরত ইবরাহিম আলাইহিসসালামের অনুসারী দাবি করত, এবং তাদের মধ্যে হজরত ইবরাহিম আ:-এর অনেক কথার প্রচলন ছিল। যদিও বাস্তবতা ছিল এর ভিন্ন, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের এই অসার দাবি খণ্ডন করেছেন এই বলে, ‘তিনি (হজরত ইবরাহিম আ:) মুশরিক ছিলেন না’ (সূরা বাকারা : ১৩৫)।
তথাপি তারা এই মাসগুলোকে সম্মান করত এবং যুদ্ববিগ্রহকে হারাম মনে করত। তাই কুরআনে কারিমে হুকুম করা হয়েছে এই মাসগুলোকে সম্মান করতে। আর এগুলোর মধ্যে মহররম মাস অন্যতম।
হাদিস শরিফে নবী করিম সা: মহররমের দশ তারিখে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন। শুরুতে যখন রমজানের রোজা ফরজ ছিল না তখন আশুরার রোজা ফরজ ছিল। পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ হয় তখন আশুরার রোজা ফরজ থাকেনি (সুনানে আবু দাউদ : ২৪৪৪)।
তবে এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ এবং এর মহা সাওয়াবের কথা নবী করিম সা: হাদিস শরিফে ব্যক্ত করেছেন। নবী করিম সা: ইরশাদ করেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে মহররম মাসের রোজা’ (মুসলিম শরীফ)।
হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সা:- কে আশুরার দিন এবং রমজান মাসে যেরূপ যতেœর সাথে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য কোনো সময় দেখিনি’ (বুখারি, মুসলিম)।
হজরত আবু কাতাদাহ আল-আনসারী রা: থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা: আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, এই রোজার দ্বারা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয় (ইবনে মাজাহ, মুসলিম শরীফ)।
ওপরে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসগুলো দ্বারা এই মাসে, বিশেষভাবে আশুরার দিনে যা করণীয় ও বর্জনীয় সাব্যস্ত হয়, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।
করনীয় কাজগুলো : আগেই উল্লেখ হয়েছে, রমজান মাসের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজা হচ্ছে মহররম মাসের রোজা, তাই সাধ্য অনুযায়ী পুরো মহররম মাসজুড়ে বেশি বেশি রোজা রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। বিশেষভাবে আশুরা দিবসের রোজা রাখা। এর অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব এসেছে হাদিস শরিফে। এর দ্বারা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
আগেই উল্লেখ হয়েছে যে, আশুরার রোজা একসময় ফরজ ছিল, পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ হয় তখন এই রোজা রাখা আর ফরজ থাকেনি। তবে যেহেতু এই দিন ইহুদিরাও রোজা রাখে, তাই নবী করিম সা: ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা এর সাথে আগে বা পরে একটি রোজা মিলিয়ে রাখো যেন ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য না হয়।’ তাই ওলামায়ে কিরাম বলেন, আশুরার সাথে আগে অথবা পরে অর্থাৎ ৯-১০ বা ১০-১১ তারিখে একসাথে দু’টি রোজা রাখা উত্তম।
এ দিনে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতের তওবা কবুল করেছেন এবং এ উম্মতকেও ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি হাদিস শরিফে এসেছে। তাই এ দিনে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি ইসতেগফার করা এবং খালেস দিলে তওবা করা।
বর্জনীয় কাজগুলো : যে আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন যে, চারটি মাস সম্মানিত, সে আয়াতেরই শেষ অংশে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অতএব তোমরা এই মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম কোরো না’ (সূরা তাওবা : ৩৬)।
বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে জান আমাদের দান করেছেন এটার হিফাজত করা। একে কষ্ট না দেয়া, অকারণে একে বিপদে না ফেলা। সব ক্ষতিকারক জিনিস থেকে এর হিফাজত করা। তাই এই মাসে অনেকে হজরত হুসাইন রা:-এর শাহাদতের ওপর শোকের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ যে বুক চাপড়ায়, নিজের শরীরকে জখম করে, রক্তাক্ত করে, কুরআন মজিদ এই কাজকে কঠিনভাবে নিষেধ করছে।
নিজের জানকে কষ্টে ফেলে শোক প্রকাশ করার ওপর হাদিস শরীফেও কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘ওই ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) দলভুক্ত নয় যে তার গাল চাপড়ায়, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জামানায় জাহিলিয়াতের মতো ক্রন্দন করে (শোক প্রকাশ করে)’ (সহিহ বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ)।
আজকাল আশুরা উপলক্ষে যে মাতম করা হয়, ইসলাম তার অনুমতি দেয় না, এবং যার শাহাদতে শোক প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তিনি নিজেও এরূপ করতে পরিষ্কারভাকে বারণ করে গেছেন।
এই মাসে নেক আমলের যেমন বিশাল সওয়াব রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে এ দিনগুলোয় গুনাহেরও ভয়াবহ শাস্তি রয়েছে। তাই এমন কোনো কাজে লিপ্ত না হওয়া একান্ত কাম্য যার দ্বারা এ মাসের পবিত্রতা নষ্ট হয় অথবা এর মর্যাদাহানি হয়।
আমাদের সমাজে অনেকের একটা ভুল ধারণা রয়েছে, অনেকে মনে করেন, আশুরা বা দশই মহররমের ফজিলত এই জন্য যে, এই দিনে নবী দৌহিত্র হজরত হুসাইন রা: কারবালার ময়দানে শাহাদতবরণ করেছেন। অথচ এই মাসের, বিশেষ করে আশুরার ফজিলত নবী করিম সা:-এর দুনিয়াতে আগমনের আগে থেকেই সাব্যস্ত। যেহেতু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের হুকুম ছিল, তাই সব নবী আ:-এর ফজিলতের কথা উম্মতকে জানিয়ে গিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সা: ও এটাকে আল্লাহর হুকুমে অবশিষ্ট রেখেছেন। যখন তিনি এর ফজিলত উম্মতের সামনে পেশ করেন, তখন হজরত হুসাইন রা: ছিলেন শিশু। আর বাস্তবতাও হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আর তা হচ্ছে হজরত হুসাইন রা:-এর ফজিলত ও মহত্ত্বের বহিঃপ্রকাশের উদ্দেশ্যেই হয়তো আল্লাহ তায়ালা তাঁর শাহাদতের জন্য এই মহান দিনকে বেঁছে নিয়েছেন, যার ফজিলত পূর্ববর্তী আম্বিয়া আলাইহিমুসসালামের যুগ থেকে স্বীকৃত।
আমাদের সমাজে একটা প্রথা প্রচলিত রয়েছে, আর তা হচ্ছে এই দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় ঘরে ভালো রান্না করা। আর পেছনে বিভিন্ন ফজিলতও বর্ণনা করা হয়। যদিও কেউ কেউ এ বিষয়ক রেওয়াত এনেছেন, যেমন বাইহাকি ও ইবনে হিব্বান প্রমুখ; কিন্তু তা কোনো সূত্র দ্বারা সমর্থিত নয়।
লেখক : প্রবন্ধকার
ওপরে উল্লিখিত আয়াতে সম্মানিত মাসগুলো কী তা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরিফে বলে দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব (সহিহ বুখারি, দ্বিতীয় খণ্ড, ৬৭২)।
মহররম শব্দের অর্থ হচ্ছে যাকে ‘হুরমত’ প্রদান করা হয়েছে। আরবি ভাষায় হুরমত বলা হয় সম্মান, মর্যাদা, মাহাত্ম ও পবিত্রতাকে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই মাসকে বিশেষ সম্মান দান করেছেন।
হজরত ইবরাহিম আ:-এর শরিয়তেও অন্যান্য নবীগণের মতো এই মাসগুলোর সম্মান-মর্যাদা স্বীকৃত ছিল এবং এগুলোতে জায়েজ উদ্দেশ্যও যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম ছিল। মক্কার মুশরিকরা নিজেদের হজরত ইবরাহিম আলাইহিসসালামের অনুসারী দাবি করত, এবং তাদের মধ্যে হজরত ইবরাহিম আ:-এর অনেক কথার প্রচলন ছিল। যদিও বাস্তবতা ছিল এর ভিন্ন, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের এই অসার দাবি খণ্ডন করেছেন এই বলে, ‘তিনি (হজরত ইবরাহিম আ:) মুশরিক ছিলেন না’ (সূরা বাকারা : ১৩৫)।
তথাপি তারা এই মাসগুলোকে সম্মান করত এবং যুদ্ববিগ্রহকে হারাম মনে করত। তাই কুরআনে কারিমে হুকুম করা হয়েছে এই মাসগুলোকে সম্মান করতে। আর এগুলোর মধ্যে মহররম মাস অন্যতম।
হাদিস শরিফে নবী করিম সা: মহররমের দশ তারিখে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন। শুরুতে যখন রমজানের রোজা ফরজ ছিল না তখন আশুরার রোজা ফরজ ছিল। পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ হয় তখন আশুরার রোজা ফরজ থাকেনি (সুনানে আবু দাউদ : ২৪৪৪)।
তবে এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ এবং এর মহা সাওয়াবের কথা নবী করিম সা: হাদিস শরিফে ব্যক্ত করেছেন। নবী করিম সা: ইরশাদ করেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে মহররম মাসের রোজা’ (মুসলিম শরীফ)।
হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সা:- কে আশুরার দিন এবং রমজান মাসে যেরূপ যতেœর সাথে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য কোনো সময় দেখিনি’ (বুখারি, মুসলিম)।
হজরত আবু কাতাদাহ আল-আনসারী রা: থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা: আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, এই রোজার দ্বারা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয় (ইবনে মাজাহ, মুসলিম শরীফ)।
ওপরে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসগুলো দ্বারা এই মাসে, বিশেষভাবে আশুরার দিনে যা করণীয় ও বর্জনীয় সাব্যস্ত হয়, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।
করনীয় কাজগুলো : আগেই উল্লেখ হয়েছে, রমজান মাসের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজা হচ্ছে মহররম মাসের রোজা, তাই সাধ্য অনুযায়ী পুরো মহররম মাসজুড়ে বেশি বেশি রোজা রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। বিশেষভাবে আশুরা দিবসের রোজা রাখা। এর অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব এসেছে হাদিস শরিফে। এর দ্বারা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
আগেই উল্লেখ হয়েছে যে, আশুরার রোজা একসময় ফরজ ছিল, পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ হয় তখন এই রোজা রাখা আর ফরজ থাকেনি। তবে যেহেতু এই দিন ইহুদিরাও রোজা রাখে, তাই নবী করিম সা: ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা এর সাথে আগে বা পরে একটি রোজা মিলিয়ে রাখো যেন ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য না হয়।’ তাই ওলামায়ে কিরাম বলেন, আশুরার সাথে আগে অথবা পরে অর্থাৎ ৯-১০ বা ১০-১১ তারিখে একসাথে দু’টি রোজা রাখা উত্তম।
এ দিনে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতের তওবা কবুল করেছেন এবং এ উম্মতকেও ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি হাদিস শরিফে এসেছে। তাই এ দিনে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি ইসতেগফার করা এবং খালেস দিলে তওবা করা।
বর্জনীয় কাজগুলো : যে আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন যে, চারটি মাস সম্মানিত, সে আয়াতেরই শেষ অংশে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অতএব তোমরা এই মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম কোরো না’ (সূরা তাওবা : ৩৬)।
বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে জান আমাদের দান করেছেন এটার হিফাজত করা। একে কষ্ট না দেয়া, অকারণে একে বিপদে না ফেলা। সব ক্ষতিকারক জিনিস থেকে এর হিফাজত করা। তাই এই মাসে অনেকে হজরত হুসাইন রা:-এর শাহাদতের ওপর শোকের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ যে বুক চাপড়ায়, নিজের শরীরকে জখম করে, রক্তাক্ত করে, কুরআন মজিদ এই কাজকে কঠিনভাবে নিষেধ করছে।
নিজের জানকে কষ্টে ফেলে শোক প্রকাশ করার ওপর হাদিস শরীফেও কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘ওই ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) দলভুক্ত নয় যে তার গাল চাপড়ায়, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জামানায় জাহিলিয়াতের মতো ক্রন্দন করে (শোক প্রকাশ করে)’ (সহিহ বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ)।
আজকাল আশুরা উপলক্ষে যে মাতম করা হয়, ইসলাম তার অনুমতি দেয় না, এবং যার শাহাদতে শোক প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তিনি নিজেও এরূপ করতে পরিষ্কারভাকে বারণ করে গেছেন।
এই মাসে নেক আমলের যেমন বিশাল সওয়াব রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে এ দিনগুলোয় গুনাহেরও ভয়াবহ শাস্তি রয়েছে। তাই এমন কোনো কাজে লিপ্ত না হওয়া একান্ত কাম্য যার দ্বারা এ মাসের পবিত্রতা নষ্ট হয় অথবা এর মর্যাদাহানি হয়।
আমাদের সমাজে অনেকের একটা ভুল ধারণা রয়েছে, অনেকে মনে করেন, আশুরা বা দশই মহররমের ফজিলত এই জন্য যে, এই দিনে নবী দৌহিত্র হজরত হুসাইন রা: কারবালার ময়দানে শাহাদতবরণ করেছেন। অথচ এই মাসের, বিশেষ করে আশুরার ফজিলত নবী করিম সা:-এর দুনিয়াতে আগমনের আগে থেকেই সাব্যস্ত। যেহেতু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের হুকুম ছিল, তাই সব নবী আ:-এর ফজিলতের কথা উম্মতকে জানিয়ে গিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সা: ও এটাকে আল্লাহর হুকুমে অবশিষ্ট রেখেছেন। যখন তিনি এর ফজিলত উম্মতের সামনে পেশ করেন, তখন হজরত হুসাইন রা: ছিলেন শিশু। আর বাস্তবতাও হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আর তা হচ্ছে হজরত হুসাইন রা:-এর ফজিলত ও মহত্ত্বের বহিঃপ্রকাশের উদ্দেশ্যেই হয়তো আল্লাহ তায়ালা তাঁর শাহাদতের জন্য এই মহান দিনকে বেঁছে নিয়েছেন, যার ফজিলত পূর্ববর্তী আম্বিয়া আলাইহিমুসসালামের যুগ থেকে স্বীকৃত।
আমাদের সমাজে একটা প্রথা প্রচলিত রয়েছে, আর তা হচ্ছে এই দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় ঘরে ভালো রান্না করা। আর পেছনে বিভিন্ন ফজিলতও বর্ণনা করা হয়। যদিও কেউ কেউ এ বিষয়ক রেওয়াত এনেছেন, যেমন বাইহাকি ও ইবনে হিব্বান প্রমুখ; কিন্তু তা কোনো সূত্র দ্বারা সমর্থিত নয়।
লেখক : প্রবন্ধকার
রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৪
শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৪
বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৪
ঈদুল আজহার বিধান। কোরানের আলো।
ঈদুল আজহার বিধান :
মুসলিম ভাই, আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়
করছি যে, তিনি তোমাকে দীর্ঘ জীবি করেছেন, যার ফলে তুমি আজকের এ দিনগুলোতে উপনীত
হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার জন্য ইবাদাত ও নেকআমল করার
সুযোগ পেয়েছ।
ঈদ এ উম্মতের বৈশিষ্ট্য এবং দীনের একটি
উজ্জল নিদর্শন। তোমার দায়িত্ব এটা গুরুত্ব ও সম্মানসহ গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা
বলেন :
﴿ ذَلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ
فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ ﴾ [الحج:32].
এটাই হল আল্লার বিধান; যে আল্লাহর
নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাকওয়া থেকেই। (হজ : ৩২)
ঈদের ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত কিছু আদব ও
আহকাম :
১. তাকবীর : আরাফার দিনের
ফজর থেকে শুরু করে তাশরীকের দিনের শেষ পর্যন্ত, তথা জিলহজ মাসের তের তারিখের আসর
পর্যন্ত তাকবীর বলা। আল্লাহ তাআলা বলেন :
﴿ وَاذْكُرُواْ اللّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ ﴾ [البقرة:203]
আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট
দিনসমূহে। (বাকারা : ২০৩)
তাকবীর বলার পদ্ধতি :
" الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد "
আল্লাহর যিকির বুলন্দ ও সর্বত্র
ব্যাপক করার নিয়তে পুরুষদের জন্য মসজিদে, বাজারে, বাড়িতে ও সালাতের পশ্চাতে উচ্চ
স্বরে তাকবীর পাঠ করা সুন্নত।
২. কুরবানী করা : ঈদের দিন
ঈদের সালাতের পর কুরবানী করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
:
{ من ذبح قبل أن يصلي فليعد مكانها أخرى، ومن لم
يذبح فليذبح } [رواه البخاري
ومسلم].
যে ব্যক্তি ঈদের আগে যবেহ করল, তার
উচিত তার জায়গায় আরেকটি কুরবানী করা। আর যে এখনো কুরবানী করেনি, তার উচিত এখন কুরবানী
করা। (বুখারী ও মুসলিম) কুরবানী করার সময় চার দিন। অর্থাৎ নহরের দিন এবং তার
পরবর্তী তাশরীকের তিন দিন। যেহেতু রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন :
{
كل أيام التشريق ذبح } [انظر السلسلة
الصحيحة برقم 2467].
তাশরীকের দিন কুরবানীর দিন। (সহীহ
হাদীস সমগ্র : ২৪৬৭)
৩. পুরুষদের জন্য গোসল করা ও
সুগন্ধি মাখা : সুন্দর কাপড় পরিধান করা, ঢাকনার নিচে কাপড় পরিধান না
করা, কাপড়ের ক্ষেত্রে অপচয় না করা। দাঁড়ি না মুণ্ডানো, এটা হারাম। নারীদের জন্য
ঈদগাহে যাওয়া বৈধ, তবে আতর ও সৌন্দর্য প্রদর্শন পরিহার করে। মুসলিম নারীদের জন্য কখনো
শোভা পায় না যে, সে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য তাঁরই গুনাতে লিপ্ত হয়ে ধর্মীয় কোন
ইবাদাতে অংশ গ্রহণ করবে। যেমন সৌন্দর্য প্রদর্শন, সুসগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদি করে
ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া।
৪. কুরবানীর গোস্ত ভক্ষণ করা। ঈদুল আজহার
দিন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানা খেতেন না, যতক্ষণ না তিনি
ঈদগাহ থেকে ফিরে আসতেন, অতঃপর তিনি কুরবানী গোস্ত থেকে ভক্ষণ করতেন।
৫. সম্ভব হলে ঈদগাহে হেঁটে হেঁটে
ঈদগাহে যাওয়া : ঈদগাহতেই সালাত আদায় করা সুন্নত। তবে বৃষ্টি বা অন্য
কোন কারণে মসজিদে পড়া বৈধ, যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা
পড়েছেন।
৬. মুসলমানদের সাথে সালাত আদায় করা
এবং খুতবায় অংশ গ্রহণ করা : উলামায়ে কেরামদের প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ মত
হচ্ছে, ঈদের সালাত ওয়াযিব। এটাই ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :
﴿ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴾ [الكوثر:2].
অতএব তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর। (কাউসার : ২)
উপযুক্ত কোন কারণ ছাড়া ঈদের সালাতের
ওয়াজিব রহিত হবে না। মুসলমানদের সাথে নারীরাও ঈদের সালাতে হাজির হবে। এমনকি ঋতুবতী
নারী ও যবতী মেয়েরা। তবে ঋতুবতী নারীরা ঈদগাহ থেকে দূরে অবস্থান করবে।
৭. রাস্তা পরিবর্তন করা : এক রাস্তা
দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া ও অপর রাস্তা দিয়ে ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফেরা মুস্তাহাব। যেহেতু তা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম করেছেন।
৮. ঈদের সুভেচ্ছা জানানো : ঈদের দিন একে অপরকে
সুভেচ্ছা বিনিময় করা : যেমন বলা :
تقبل
الله منا ومنكم. أو تقبل الله منا ومنكم صالح الأعمال.
অর্থ : আল্লাহ আমাদের থেকে ও তোমাদের
থেকে নেকআমলসমূহ কবুল করুন। বা এ ধরণের অন্য কিছু বলা।
এ দিনগুলোতে সাধারণ ঘটে যাওয়া কিছু
বেদআত ও ভুল ভ্রান্তি থেকে সকলের সতর্ক থাকা জরুরী : যেমন :
১. সম্মিলিত তাকবীর বলা : এক আওয়াজে
অথবা একজনের বলার পর সকলের সমস্বরে বলা থেকে বিরত থাকা।
২. ঈদের দিন হারাম জিনিসে লিপ্ত
হওয়া : গান শোনা, ফিল্ম দেখা, বেগানা নারী-পুরুষের সাথে
মেলামেশা করা ইত্যাদি পরিত্যাগ করা।
৩. কুরবানী করার পূর্বে চুল, নখ
ইত্যাদি কর্তন করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানী
দাতাকে জিলহজ মাসের আরম্ভ থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।
৪. অবপচয় ও সীমালঙ্ঘন করা : এমন খরচ করা,
যার পিছনে কোন উদ্দেশ্য নেই, যার কোন ফায়দা নেই, আর না আছে যার কোন উপকার। আল্লাহ
তাআলা বলেছেন :
﴿ وَلاَ تُسْرِفُواْ إِنَّهُ لاَ يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
﴾ [الأنعام:141].
আর তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি
অপচয়কারীদেরকে ভালবাসেন না। (আনআম : ১৪১)
করবানীর বৈধতা ও তার কতক বিধান :
কুরবানীর অনুমোদনের ব্যাপারে আল্লাহ
তা’আলা বলেন।
﴿ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴾ [الكوثر:2]
অতএব তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর। (কাউসার : ২)
তিনি আরো বলেন :
﴿ وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ
اللَّهِ ﴾ [الحج:36]،
আর কুরবানীর উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর
অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছি। (হজ : ৩৬)
কুরবানী সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সামর্থ
থাকা সত্বে তা ত্যাগ করা মাকরুহ। আনাস রাদিআল্লাহু আনহুর হাদীসে রয়েছে, যা বুখারী
ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন :
أن النبي - صلى الله عليه وسلم - ضحى بكبشين
أملحين أقرنين ذبحهما بيده وسمى وكبر.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম তরতাজা ও শিং ওয়ালা দুটি মেষ নিজ হাতে যবেহ করেছেন এবং তিনি তাতে
বিসমিল্লাহ ও তাকবীর বলেছেন।
কুরবানীর পশু : উঠ, গরু ও
বকরী ছাড়া কুরবানী শুদ্ধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন :
﴿ لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا
رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ﴾[الحج:34].
যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে,
যেসমস্ত জন্তু তিনি রিয্ক হিসেবে দিয়েছেন তার উপর। (হজ : ৩৪)
কুরবানী শুদ্ধ হওয়ার জন্য ত্রুটি
মুক্ত পশু হওয়া জরুরী :
قال رسول
الله - صلى الله عليه وسلم -: {
أربعة لا تجزئ في الأضاحي: العوراء البيّن عورها، والمريضة البيّن مرضها، والعرجاء
البيّن ضلعها، والعجفاء التي لا تنقي } [رواه الترمذي].
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কুরবানীর পশুতে চারটি দোষ সহনীয় নয় : স্পষ্ট কানা,
স্পষ্ট অসুস্থ্য, হাড্ডিসার ও ল্যাংড়া পশু। (তিরমিযী : কিতাবুল হজ : ৩৪)
যবেহ করার সময় : ঈদের সালাতের পর কুরবানীর সময় শুরু
হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
{ من ذبح قبل الصلاة فإنما يذبح لنفسه، ومن
ذبح بعد الصلاة والخطبتين فقد أتم نسكه وأصاب السنة } [متفق
عليه].
যে সালাতের পূর্বে যবেহ করল, সে
নিজের জন্য যবেহ করল। আর যে খুতবা ও ঈদের সালাতের পর কুরবানী করল, সে তার কুরবানী
ও সুন্নত পূর্ণ করল। (বুখারী ও মুসলিম)
যে সুন্দর করে যবেহ করার ক্ষমতা রাখে
তার উচিত নিজ হাতে কুরবানী করা। কুরবানীর সময় বলবে :
بسم الله
والله أكبر، اللهم هذا عن فلان
কুরবানীকারী নিজের নাম বলবে অথবা যার
পক্ষ থেকে করবানী করা হচ্ছে তার নাম বলবে । যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
{ بسم الله والله أكبر، اللهم هذا عني وعن من لم
يُضح من أمتي }[رواه
أبو داود والترمذي]،
বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার; হে
আল্লাহ, এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কুরবানী করেনি, তাদের
পক্ষ থেকে। (আবূদাউদ ও তিরমিযী)
কুরবানীর গোস্ত ভণ্টন করা : কুরবানী পেশকারী ব্যক্তির জন্য
সুন্নত হচ্ছে কুরবানীর গোস্ত নিজে খাওয়া, আত্মীয় ও প্র্রতিবেশীদের হাদিয়া দেয়া এবং
গরীবদের সদকা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন :
﴿ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ
الْفَقِيرَ ﴾ [الحج:28]
অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে
থেকে দাও। (হজ : ২৮)
তিনি আরো বলেন :
﴿ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ
وَالْمُعْتَرَّ ﴾ [الحج:36]
তখন তা থেকে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত
পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে খেতে দাও। (হজ : ৩৬)
পূর্বসূরীদের
অনেকের পছন্দ হচ্ছে, কুরবানীর গোস্ত তিনভাগে ভাগ করা। এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য
রাখা। এক তৃতীয়াংশ ধনীদের হাদীয়া দেয়া। এক তৃতীয়াংশ ফকীরদের জন্য সদকা করা। পারিশ্রমিক
হিসেবে এখান থেকে কসাই বা মজদুরদের কোন অংশ প্রদান করা যাবে না।
কুরবানী
পেশকারী যা থেকে বিরত থাকবে : যখন কেউ কুরবানী
পেশ করার ইচ্ছা করে আর জিলহজ মাস প্রবেশ করে, তার জন্য চুল, নখ অথবা চামড়ার কোন
অংশ কাটা হারাম, যতক্ষণ না কুরবানী করে। উম্মে সালমার হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
{ إذا دخلت العشر وأراد أحدكم أن يضحي فليمسك عن
شعره وأظفاره } [رواه أحمد ومسلم]،
وفي لفظ: { فلا يمس من شعره ولا بشره شيئاً حتى يضحي }
যখন জিলহজ মাসের দশ দিন প্রবেশ করে এবং তোমাদের
কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, সে তখন থেকে চুল ও নখ কর্তন থেকে বিরত থাকবে।
ইতিপূর্বে যা কর্তন করেছে, সে জন্য তার কোন গুনা হবে না।
কুরবানী দাতার পরিবারের লোক জনের নখ, চুল ইত্যাদি
কাঁটাতে কোন সমস্যা নেই।
কোন কুরবানী তাদা যদি তার চুল, নখ অথবা চামড়ার
কোন অংশ কেঁটে ফেলে, তার জন্য উচিত তাওবা করা, পুনরাবৃত্তি না করা, তবে এ জন্য কোন
কাফ্ফারা নেই এবং এ জন্য কুরবানীতে কোন সমস্যা হবে না। আর যদি ভুলে, অথবা না জানার
কারণে অথবা অনিচ্ছাসত্বে কোন চুল পড়ে যায়, তার কোন গুনা হবে না। আর যদি সে কোন
কারণে তা করতে বাধ্য হয়, তাও তার জন্য জায়েয, এ জন্য তার কোন কিছু প্রদান করতে হবে
না। যেমন নখ ভেঙ্গে গেল, ভাঙ্গা নখ তাকে কষ্ট দিচ্ছে, সে তা কর্তন করতে পারবে,
তদ্রূপ কারো চুল বেশী লম্বা হয়ে চোখের উপর চলে আসছে, সেও চুল কাঁটতে পারবে অথবা
কোন চিকিৎসার জন্যও চুল ফেলতে পারবে।
মুসলিম ভাইদের প্রতি আহব্বান : আপনারা উপরে বর্ণিত
নেকআমল ছাড়াও অন্যান্য নেকআমলের প্রতি যত্নশীল হোন। যেমন আত্মীয় স্বজনদের সাথে
দেখা-সাক্ষাত করা, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা, একে অপরকে মহব্বত করা এবং গরীব ও
ফকীরদের উপর মেহেরবান হওয়া এবং তাদের আনন্দ দেয়া ইত্যাদি।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে তাঁর
পছন্দনীয় কথা, কাজ ও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
সমাপ্ত
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)






