Pages

বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৪

আশুরার আমল।

ইসলামী বর্ষপঞ্জি মতে, মহররম মাস হলো আরবি সনের প্রথম মাসমহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে চারটি মাস সব মাসের চেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও সম্মানিতআর তা আল কুরআনের আয়াতে কারিমা দ্বারা প্রমাণিতমহররম সেই চারটি মাসের মধ্যে অন্যতম মাসঅন্য তিনটি হলোÑ জিলকদ, জিলহজ ও রজবআল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন, আল্লাহ তায়ালা আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই মাসের সংখ্যা ও বার নির্ধারণ করে রেখেছেনতন্মধ্যে চারটি মাস অধিক সম্মানিতসুতরাং তোমরা এই সম্মানিত মাসগুলোর মধ্যে (ঝগড়াবিবাদ ও খুনখারাবি করে) নিজেদের ওপর জুলুম করো নাওপরের আয়াতে এ কথা প্রমাণিত যে, মহররম মাসটি অত্যন্ত ফজিলত ও বরকতপূর্ণ মাসগুলোর অন্যতমমহররম মাসের সম্মানের বিষয়ে রাসূল সা: বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর মাস মহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেকেননা যে ব্যক্তি মহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত দান করে সম্মানিত করবেন আল্লাহ তায়ালা’ (মুসলিম ইবনে মাজা)অপর হাদিসে রাসূল সা: এরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজার পরই আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রিয় হলো মহররম মাসের রোজা’ (মুসলিম)
অপর হাদিসে রাসূলে করিম সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি মহররমের প্রথম দশ দিন রোজা রাখে, সে যেন দশ হাজার বছর যাবৎ দিনে রোজা রাখল এবং রাতে ইবাদত করল’ (বায়হাকি)
মহররম মাসের সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো ইয়াওমুল আশুরা তথা মহররমের দশ তারিখের রোজাতবে যেহেতু ইহুদিরাও দশ তারিখের রোজা রাখে, তাই রাসূল সা: দশ তারিখের রোজার সাথে মিলিয়ে আরো একটি, অর্থাৎ মোট দুটি রোজা রাখার কথা বলেছেননিঃসন্দেহে এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ, যা একাধিক হাদিস ও বুজুর্গানে দ্বীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, এই রোজা ফরজ নয়তাই যার যার ইচ্ছানুযায়ী এই দিনে রোজা রাখতে পারেননা রাখলে কোনো গুনাহ হবে নাআজকের সমাজে অনেকে এই রোজা না রাখাকে মহাপাপ মনে করেন, যা চরম অজ্ঞতার পরিচায়ক
মহররম মাস যেহেতু পবিত্র ও সম্মানিত, তাই এ মাসে সামর্থ্য অনুসারে দান-খয়রাত, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতেরও বিশেষ ফজিলত রয়েছেতাই এই মাসে এবাদতের প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা দরকার
মহররম মাসে বিদআত : মহররম মাস আনন্দের মাস, আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করার মাসনতুন বছরের শুরুর মাসেই নিজেকে সংশোধন ও সত্যের আলোয় রাঙানোর মাসএখানে বিদআত তথা অতিরঞ্জিত কোনো কিছুর স্থান নেইকিন্তু বাস্তবতা হলোÑ আশুরাকে কেন্দ্র করে কিছু ভ্রান্ত মতবাদ সমাজে চালু আছেযেমন তাজিয়া তৈরি, হোসাইন রা:-কে স্মরণ করার নামে মাতম করা অথবা অতি আনন্দে আলোকসজ্জা বা পটকা ফুটানো ইত্যাদিএগুলো ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করে নাইসলামের মতো সত্য ও সুন্দর ধর্মে এসব ভণ্ডামির কোনো আশ্রয় নেইমহররম মাসে আমাদের উচিত সর্বপ্রকার কুসংস্কার ও বিদআত থেকে মুক্ত হয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ মাসকে যথাযথ সম্মান করা এবং বেশি বেশি এবাদত করা



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন